বিস্তারিত......
ফাল্গুনের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে ‘আগুনরাঙা ফাগুনে আবারও উচ্চারিত হোক গণতন্ত্রের শপথ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের আয়োজনে ‘গণতন্ত্রের বসন্ত’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।
'গনতন্ত্রের বসন্ত' উৎসবের প্রথম অংশে ক্যাম্পাস রূপ নেয় এক ভিন্ন সাজে। নারী শিক্ষার্থীরা বাসন্তী, হলুদ ও লাল রঙের শাড়ি এবং ছাত্ররা বাহারি রঙের পাঞ্জাবি পরে এই উৎসবে যোগ দেন। তাদের রঙিন পোশাকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
Ad
এছাড়া বসন্ত উৎসবে শিক্ষার্থীদের নিজেদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প, গহনা ও সাজসজ্জার জিনিসপত্রের স্টলগুলো ছিল অন্যতম আকর্ষণ। স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিক্ষার্থীরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে এসব স্টল ঘুরে দেখেন এবং নিজেদের পছন্দের জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে স্মৃতি ধরে রাখতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলাদা উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ছবি তোলার জন্য তৈরি করা বিশেষ ফটোবুথ ঘিরে ছিল তরুণ-তরুণীদের বাধভাঙা উল্লাস। একে অপরের সঙ্গে ফ্রেমবন্দী হয়ে বসন্তের এই আনন্দময় মুহূর্তগুলো ক্যামেরার লেন্সে সংরক্ষণ করেন তারা। এছাড়াও আয়োজনে ছিল সঙ্গীতানুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্যানুষ্ঠান ও ব্যান্ড দলের পারফরম্যান্স এবং উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুল বিতরণ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
উৎসবে অংশ নেওয়া বাংলা বিভাগের সুমাইয়া তাবাসসুম বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ছুটির পর ক্যাম্পাসে এমন প্রাণবন্ত একটি উৎসব পেয়ে অমরা আনন্দিত। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে নিয়ে গান, আড্ডা, গ্রামীণ শিল্পের স্টল ঘুরে দেখা এবং ছবি তুলেছি। বসন্তের এই উৎসবমুখর দিনটি সত্যিই দারুণভাবে উপভোগ করেছি সবাই মিলে।
Click Now
জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, আমাদের দেশে বিগত বেশ কিছু বছর গণতন্ত্রের বসন্ত ছিল না। নতুন যে বসন্তের আগমন ঘটেছে তার প্রতিফলন হিসেবে আমরা এ আয়োজন করেছি। আগামীতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
সার্বিক আয়োজনের বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, দীর্ঘদিন পর গণতন্ত্র এসেছে। এ-র আগে ১৭-১৮টি বসন্ত কেটেছে স্বৈরাচারের অধীনে। আমরা সকল শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করেছি, তাদের মতামত নিয়েছি, কথা শুনেছি। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এসে গান, কবিতা আবৃত্তিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থীদের এই আনন্দঘন পরিবেশে গণতন্ত্র উদযাপনসহ ‘গণতন্ত্রের বসন্ত’ শিরোনামে আমরা এই অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছি।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, নির্বাচনসহ নানা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা পহেলা ফাল্গুন উদযাপন করতে পারেনি। আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা গণতন্ত্রের নতুন যাত্রার সূচনা করতে চেয়েছি। আমরা সবসময় ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু ও ইতিবাচক ধারার রাজনীতি চাই। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করার কোনো অপচেষ্টা হলে আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়েই তা প্রতিহত করব।
Ad Click
Comments
Post a Comment
Thank you for commenting.